করুণপ্রেমেরগল্প

-ভাইয়া একটা গল্প বলো।
-কি গল্প?
-যা মনে চায়। তবে ইন্টারেস্টিং গল্প হতে হবে।
-আচ্ছা, ইন্টারেস্টিং গল্প। 
-হুম, আর একটু রোমান্টিক। 
-ইন্টারেস্টিং, আবার রোমান্টিক! 
– হুম, রোমান্টিক গল্প ইন্টারেস্টিং হতে পারে না?
– তা পারে। পারবে না কেন?
– তাহলে? বলো একটা ইন্টারেস্টিং রোমান্টিক গল্প।  সাথে কিছু দুঃখও রেখো।
– তুই আসলে কি ধরনের গল্প শুনতে চাস বলতো?
– ইন্টারেস্টিং রোমান্টিক গল্প, যেটা কিছুটা স্যাডও।
– হুম, বুঝেছি। এক কাজ কর, আমার কাছে গল্প না শুনে একটা বাংলা সিনেমা দেখে ফেল।  ইন্টারেস্টিং রোমান্টিক স্যাড সহ আরো অনেক কিছু বোনাস পাবি।
– তুমি গল্প না বলো না বলো; বাজে কথা বলো কেন!  থাক, তোমার গল্প বলতে হবে না।
– সরি। যা, তোর জন্য একটা গল্প বানিয়েই ফেলবো। আধ ঘন্টা পরে আয়।
– উঁকিঝুঁকি মারতে হবে না। আয়, গল্প শুনে যা। চেয়ারটা টেনে বোস। গল্প কিন্তু খুব রোমান্টিক আর খুব স্যাড। সহ্য করতে পারবি তো?
– বলো দেখি, কেমন রোমান্টিক আর কেমন স্যাড।
-আচ্ছা ঠিক আছে। শোন তাহলে-
ছেলেটা মেয়েটাকে দেখল। মেয়েটা বিপরীত দিক থেকে আসছিল। বিকেলের মিঠে কড়া রোদ মেয়েটার চুলে পড়ে ঝকমক করছে, হালকা হাওয়ায় কপালের কাছে কয়েকটা চুল উড়ছে, ফর্সা গোল মুখটা রক্তিম আভায় ভরে আছে। ছেলেটা চোখের পলক ফেলতে ভুলে গেল। তার মনে হলো, জীবনে সে এত সুন্দর কোন মানুষ দেখেনি। এত সুন্দর মানুষ হতে পারেনা। এমন সুন্দর কারো বর্ণনা কোথাও নেই। হুর পরীদের বর্ণানাও এই মেয়ের কাছে কিছু না। মানুষ যেমনটা বলে, ওয়ান পিস মেড, কারিগর ইজ ডেড – এমন সুন্দর কারো জন্যই বলে নিশ্চয়ই। ছেলেটার মনে হলো, সে যেন সাহারা মরুভূমিতে আজীবন জাহাজ চালাচ্ছে, জাহাজ আগায় না, কারণ, জাহাজের তলে কোন জল নাই, খালি বালু আর বালু! জাহাজ পানির জন্য হাহাকার করছে। সে হাহাকারে আকাশ বাতাস কাঁপছে। এর মাঝে এই মেয়েটি যেন  স্বর্গীয় ফল্গুধারা নিয়ে এলো তার আজীবনের অচল জাহাজ চালিয়ে দিতে! ছেলেটির মনে হলো এই মেয়েকে ছাড়া সে বাঁচবে না; এই মেয়ে ছাড়া তার বেঁচে থাকার কোন মানে নেই। যেভাবে হোক মেয়েটাকে সে কথা বলতে হবে। যেভাবেই হোক মেয়েটার প্রেম তার জয় করতেই হবে। যতই মুখচোরা হোক সে, এই মেয়ের সাথে কথা বলবেই! ঐতো মেয়েটা আরো কাছাকাছি চলে এসেছে! আরেকটু এগুলোই কথা বলবে সে। টানটান উত্তেজনায় কাঁপতে লাগলো ছেলেটি…. এর মাঝেই ঘটে গেল দুর্ঘটনা! 
– কি হলো! ফুটপাতে বাস উঠে গেল?
– না। মেয়েটা নাক খোটার জন্য বাম হাতের তর্জনী নাকের ফুটোয় ঢুকালো।
– ইয়াক! 
– যা ভাগ!